ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীর মিরওয়ারিশপুরের আন্তর্জাতিক মানের একজন প্রতারক আশরাফুজ্জামান মিনহাজ

প্রতারক মিনহাজের গডফাদার চট্টগ্রাম লোহাগাড়া থানার পদুয়া ইউনিয়ন খন্দকার পাড়া গ্রামের মৃত সরোয়ার কামাল ছেলে আন্তর্জাতিক মানের একজন প্রতারক ফরিদুল আলম
  • আপলোড তারিখঃ 25-03-2025 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 3729 জন
নোয়াখালীর মিরওয়ারিশপুরের আন্তর্জাতিক মানের একজন প্রতারক  আশরাফুজ্জামান মিনহাজ ছবির ক্যাপশন: নোয়াখালীর মিরওয়ারিশপুরের আন্তর্জাতিক মানের একজন প্রতারক আশরাফুজ্জামান মিনহাজ

   আশরাফুজ্জামান মিনহাজ  ভয়ংকর এক প্রতারক  নতুন নতুন কায়দায় প্রতারণা করে অর্থ কামান তিনি। সুবিধা অনুযায়ী কখনো নিজেকে পরিচয় দেয় কানাডার ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক। আবার কোথাও বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর। বর্তমানে নিজেকে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর দাবি করে। নিজেকে বিত্তবান পরিচয় দিয়ে সুইস ব্যাংকে ৫৫ মিলিয়ন ডলার গচ্ছিত আছে বলেও দাবি তার। এমন বহুরূপী প্রতারকের নাম আশরাফুজ্জামান মিনহাজ। বাড়ি নোয়াখালীর মিরওয়ারিশপুর। বিসিএস ক্যাডার ‘কথিত’ স্ত্রীর প্রভাব দেখিয়ে ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলার আসামি করে আবার ভুক্তভোগীদের সহযোগিতার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই তার মূল পেশা। প্রতারক মিনহাজ ও তার স্ত্রীর এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দিয়েছেন একজন ভুক্তভোগী।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস.এন. মো. নজরুল ইসলাম কালবেলাকে জানায়, পুলিশসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এমনকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তার সখ্য আছে—এমনটি দাবি করে বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন মিনহাজ। এই প্রতারকের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ আছে। তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করব আমরা। মিনহাজ বর্তমানে দেশে আছেন কি না, তাও জানতে চেয়েছেন নজরুল ইসলাম।

জানা গেছে, আশরাফুজ্জামান নামের এই প্রতারকের উত্থান ২০০৮ সালে। ২০০৯ সালে সাহারা খাতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার আগেই তার পরিবারের এক সদস্যকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন মিনহাজ। এরপর ২০০৯ সালে সাহারা খাতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর তার পরিবারের জামাই পরিচয় দিয়ে সচিব, পুলিশ, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রভাবশালীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিতে শুরু করে তিনি। নিজে পুলিশ, আমলা ও বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে মামলায় ফেলে আবার মামলা থেকে বাঁচানোর নামে ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে টাকা আদায় তার প্রধান পেশা হয়ে ওঠে। এ ছাড়া কর্মকর্তাদের বিপদে ফেলেও টাকা নেন তিনি। অপরাধ করতে যখন যাকে প্রয়োজন তাকে ব্যবহার করেন প্রতারক  মিনহাজের গডফাদার  

চট্টগ্রাম লোহাগাড়া থানার পদুয়া ইউনিয়ন খন্দকার পাড়া গ্রামের মৃত সরোয়ার কামাল ছেলে আন্তর্জাতিক মানের একজন প্রতারক ফরিদুল আলম 


বর্তমানে একজন সিনিয়র সহকারী সচিব, একজন জজ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের পরিবারের এক সদস্য ও বিদেশে থাকা এক নারীকে স্ত্রী পরিচয় দেন মিনহাজ। তবে এসব নারীর মধ্যে একটি মন্ত্রণালয়ে কর্মরত সিনিয়র সহকারী সচিবই মিনহাজকে স্বামী হিসেবে স্বীকার করেন। সূত্র জানায়, সরকারি ও বেসরকারি উচ্চ মহলের কর্তাব্যক্তিদের কাছে এ প্রতারক কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর পলিসি উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। এর পাশাপাশি দেশীয় পরিচয় পলিসি মেকার ও অ্যাডভাইজার টু সজীব ওয়াজেদ জয় (সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র জয়) ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনের সুফল ভোগকারী হিসেবে। কোথাও আবার নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টিমের (যারা ট্রাম্পের ইলেকশন নিয়ে কাজ করেন) একজন অন্যতম সদস্য হিসেবে দাবি করেন। ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ইনভাইটেশন পেয়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করার কথা জানান তিনি। তার এত এত পদ-পদবিতে বিশ্বাস করে দেশের প্রশাসন ক্যাডার, জুডিশিয়ারি ও পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তিরা।

ভুক্তভোগীরা  বলেন, সরকারি কর্তাব্যক্তিদের কাছে এই ভয়ংকর প্রতারক অত্যন্ত মেধাবী বলে পরিচিত। কারও পক্ষেই তার ছদ্মবেশী ডাবল স্ট্যান্ডার্ড চরিত্র বোঝা একবারেই সম্ভব নয়; বরং মিষ্টভাষী ও সুন্দর ব্যবহারের একজন ব্যক্তিত্ব। যেসব কর্তাব্যক্তি তার সঙ্গে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে চ্যাটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে তিনি তাদের পদ-পদবি ও অবস্থান বুঝে তাদের সঙ্গে আলাপচারিতা করে। এসব উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তির সঙ্গে অধিকাংশ সময় বিদেশি সিম দ্বারা চালিত ফেসটাইম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে। যাতে তিনি অকপটেই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেও সেসব কর্তাব্যক্তিকে বলে বেড়ান আমি এখন কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইংল্যান্ডে অবস্থান করছি। এ ছাড়াও বিভিন্ন জনকে ফোন করে বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির ‘সমন্বয়কারী’ হিসেবে পরিচয় দেয়।


সম্প্রতি নতুন পন্থা অবলম্বন করে অর্থ কামানোর ধান্দায় নেমেছেন তিনি। পতিত স্বৈরাচারের ১৬ বছরে বিএনপি-জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও ভালো পদায়ন দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন—এমন আশঙ্কায় ওই কর্মকর্তারা তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ করে।

দুদকে অভিযোগ: ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি, মামলা বাণিজ্য, হয়রানি, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে প্রতারক আশরাফুজ্জামান মিনহাজ ও তার কথিত স্ত্রী সিনিয়র সহকারী সচিবের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দিয়েছেন একজন ভুক্তভোগী। অভিযোগে বলা হয়, প্রতারক মিনহাজ ম্যাজিস্ট্রেট সেজে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গাড়ি জব্দ, জরিমানা ও চাঁদাবাজি করে। তার কথিত স্ত্রী তাকে এসব অপরাধে সহযোগিতা করেন। নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু মানুষকে হয়রানি করছে আশরাফুজ্জামান মিনহাজ। নোয়াখালীতে নিজ এলাকায় অন্তত ১০ জনকে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ  আছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় সচিবালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিবের কক্ষে যান এই প্রতিবেদক। পরিচয় দিয়ে এ প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এরপর নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে জানিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান প্রতারক মিনহাজের কথিত স্ত্রী ওই সিনিয়র সহকারী সচিব। অন্যদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে আশরাফুজ্জামানকে ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার আরেকটি আমেরিকান নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দেওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।                    


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ সেরা খবর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

মায়ানমারে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়াল