স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম ॥ চট্টগ্রাম লোহাগাড়া থানার পদুয়া ইউনিয়নের খন্দকার পাড়া গ্রামের মৃত সরোয়ার কামালের বড় ছেলে প্রতারক ফরিদুল আলম (৭০) তিন সন্তানের বাবা। ২১ টি বিয়ে করা প্রতারক ফরিদুল আলম নিজেকে অনেক বড় ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে প্রায় একবছর ধরে মিতা নামের এক গৃহবধূর সঙ্গে সম্পর্ক করে। ফরিদুল আলম তাকে শর্ত দিয়েছিলেন, ১৫ ভরি সোনার গয়না এবং ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে বিয়ে করবেন । কিন্তু বিয়ের সাত দিন আগে তার মতলব ধরে ফেলেন গৃহবধূ।পরে ফরিদুল আলমকে বেঁধে লোকজনের সামনে ঝাঁটাপেটা করেন গৃহবধূ।
এরপরে প্রথমে গণপিটুনি। পরে শিকল দিয়ে বাঁধা হয় ফরিদুল আলমের কোমড়। হাত বাঁধা হয় রশি দিয়ে। গলায় পরানো হয় জুতার মালা। একপর্যায় বসানো হয় সালিশ বৈঠক। সেখানে সালিশের নির্দেশে দেয়া হয় বেত্রাঘাত। ধার্য হয় জরিমানা। এলাকা তোলপাড় করা ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের খন্দকারপাড়া গ্রামে। গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘুড়ানো হয় এ ঘটনার দুই মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘এমডি রুমান খান’ নামক আইডিতে দেখা গেছে। এতে দেখা যায়, ৭০ বছরের বৃদ্ধ ফরিদুলকে গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে।
প্রতারক ফরিদুল আলমের ধর্ষণ এবং হয়রানির স্বীকার হয়েছে অসংখ্য নারী। একাধিক নারীর সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, বাটপার ফরিদুল আলমের ফেসবুকের ৩২০০ বন্ধুর মধ্যে প্রায় ৩১০০ বন্ধুই বাংলাদেশের উচ্চতর সামাজিক শ্রেনীতে বসবাস করা মহিলা উক্ত মেয়েদের সাথে ফরিদুল আলম বিভিন্ন কৌশলে মেসেজের মাধ্যমে প্রাথমিক যোগাযোগ করে নিজের শারীরিক অসুস্থতার অভিনয় করে একটা আবেগীয় সম্পর্ক তৈরি করে।
ফরিদুল আলমের মিথ্যা অভিনয়ে কিছু মেয়ে সরলভাবে বিশ্বাস করে তার প্রতারনার জালে আটকে যায়।যদি কোন মেয়ে তার প্রতারনার জালে ধরা দিতে সম্মত না হয় তবে সেই মেয়ের নামে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন কাবিননামা নিজে বানিয়ে সেই কাবিননামা দিয়ে মিথ্যা মামলা করে অমানবিক নির্যাতন করে।এমন একজন ভুক্তভোগী নারী জানায় প্রতারক ফরিদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক না করায় তাকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী দিয়ে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাবার হুমকি দিয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী প্রতারক ফরিদুল আলম ফেসবুকে আয়শা নামের অসহায় একটি মেয়েকে চাকরির লোভ দেখায় তারপর পরকিয়া সম্পর্ক তৈরি করে তাকে বাড়ি, গাড়ি,ঢাকায় ফ্লাট লিখে দেবার লোভ দেখিয়ে শারীরিক মানসিক ভাবে চাপ দিতে থাকে।আয়শা মেয়েটি তাকে বিশ্বাস করে নিজের কিছু ব্যাক্তিগত ছবি এবং ভিডিও পাঠায়, ফরিদুল আলম আয়শার ভিডিও পাবার পর সেগুলো ভাইরাল করে দেবার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধর্ষন করে।
ফরিদুল আলম এভাবে বেশ কিছু মেয়েকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে নগদ টাকা, গহনা,মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়। সামাজিক সম্মান বজায় রাখতে কোন মেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পর্যন্ত বিষয় টি জানাতে পারে নাই।প্রতারক ফরিদুল আলমের স্কুলের সহপাঠী ভুট্টো জানায় ছোট বেলা থেকেই সে বিভিন্ন মেয়ের সাথে ইভটিজিং করে বহুবার জুতার মালা গলায় দিয়েছে।
এছাড়াও সালমা,ফাতেমা,মনিমালা,রিতা নুর নামে বেশ কিছু মেয়ের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায় ফেসবুকে তাদের সাথে চ্যাট করে তাদের সমস্যা কথা শুনে উক্ত মেয়েদের বিদেশে ভাল চাকুরি দেবার লোভ দেখিয়ে তাদের ব্যাংকের হিসাব নম্বর , পাসপোর্ট এবং ভোটার আইডি কার্ডের ছবি নিয়ে বিদেশে পাচার করতে চেয়েছে।
ফরিদুল আলমের আপন ফুফাতো ভাই ওয়াহেদ জানায় মুমূর্ষু রোগীকে হসপিটালে চিকিৎসা দেবার নামে ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় পরে আর সেই রোগীর কোন খোঁজ খবর না নিলে রুগীর আত্মীয় সজন তার থেকে টাকা নিয়ে কাফনের কাপড় কিনে সমাধিত করে।