ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভাড়াটে মামলাবাজ ও এক ভয়ঙ্কর প্রতারক ফরিদুল আলম

পাওনাদারগন টাকা ফেরত চাইলে একের পর এক ঠুকে দেন মিথ্যা মামলা। টাকার বিনিময়ে অন্যের হয়েও মামলা করতে পারদর্শী তিনি। অভিনব এই প্রতারক ফরিদুল আলম । দেশের বিভিন্ন আদালত ও থানায় তিনি প্রায় শতাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, সারাদেশে তার রয়েছে একটি মামলাবাজ সিন্ডিকেট।
  • আপলোড তারিখঃ 24-03-2025 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 4053 জন
ভাড়াটে মামলাবাজ ও এক ভয়ঙ্কর প্রতারক ফরিদুল আলম ছবির ক্যাপশন: ভাড়াটে মামলাবাজ ও এক ভয়ঙ্কর প্রতারক ফরিদুল আলম

চট্টগ্রাম লোহাগড়া থানার  পদুয়া ইউনিয়নের মৃত-সরোয়ার কামালের ছেলে  মিথ্যা মামলাবাজ ও প্রতারক ফরিদুল আলম  ।  ফরিদুল আলম প্রতারনা করে  কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় ঢাকার ৬২/৬৩ ,বড়বাগ মিপুরের বাসা থেকে। ব্যবসার অংশিদার, মামলা থেকে জামিন,ভুয়া জাল দলিল দেখিয়ে জমি বিক্রি,বিদেশে নারী পাচার, গার্মেন্টস ব্যবসা,জাহাজ ব্যবসা,শপিংমল ব্যবসা সহ বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মালিক সেজে তিনি এসব টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।


 পাওনাদারগন টাকা ফেরত চাইলে  একের  পর এক ঠুকে দেন মিথ্যা মামলা। টাকার বিনিময়ে অন্যের হয়েও মামলা করতে পারদর্শী তিনি। অভিনব এই প্রতারক  ফরিদুল আলম । দেশের বিভিন্ন আদালত ও থানায় তিনি প্রায় শতাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, সারাদেশে তার রয়েছে একটি মামলাবাজ সিন্ডিকেট।



ভুক্তভুগীরা জানায়, তাদের কারও বিরুদ্ধে ৫ টি, কারও ৮টি, কারও আবার ১২টি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় জামিন পেতে না পেতেই আরেকটি মামলার  হয়ে যায়। চট্টগ্রাম  থেকে ঢাকার সিএমএম কিংবা দায়রা জজ আদালতে তাদের জীবন আটকে আছে গেল কয়েক বছর ধরে। তাদের অভিযোগ তারা সবাই ফরিদুল আলমের  মিথ্যা মামলার শিকার। আর এসব মামলার বাদী চট্টগ্রাম  লোহাগাড়া থানার পদুয়া গ্রামের  ফরিদুল আলমের   নামের এক ব্যক্তি।


ভুক্তভোগী  আয়শা বেগম বলেন, তার হাতে ২০০ মানুষ নির্যাতিত হয়েছেন। উনার গ্রামে ৪ জন মানুষ মামলা  স্বীকার হয়ে টেনশন জনিত কারনে মারা   গেছেন।একের পর এক মিথ্যা মামলা করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করায় থানা পুলিশ ও আইন-আদালতের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


পুলিশ বলছে,  চট্টগ্রাম  লোহাগাড়া থানার পদুয়া গ্রামের  ফরিদুল আলম একজন মামলাবাজ। সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী নারীর করা মামলায় তাকে ঢাকা সিএমএম আদালত থেকে সমন জারি করা  হয়েছে। নিজের কিংবা অন্যের প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে তিনি দেশব্যাপী তৈরি করেছেন মামলাবাজ সিন্ডিকেট।  চট্টগ্রামসহ   বিভিন্ন জেলায় তার করা মামলায় অসংখ্য নিরপরাধ মানুষ হয়রানির পাশাপাশি জেলও খেটেছেন।


ভুক্তভোগী মনির হোসেন বলেন, আমার নামে ও বেনামে ২৫টি মামলা করেছেন  ফরিদুল আলম। এর মধ্যে ঢাকা সিএমএম কোর্টে দায়ের করেছেন ৪টি মামলা।পুলিশ বলছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা, এমপি-মন্ত্রীর খাস লোক পরিচয় দিয়ে এলাকার মানুষকে হয়রানির পাশাপাশি পান থেকে চুন খসলেই মামলা ঠুকে দেন তিনি। এখন পর্যন্ত শতাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।


ঢাকা মহানগর এক  গোয়েন্দা পুলিশ  (ডিবি)  বলেন , মানুষকে হয়রানি করার জন্য মামলাগুলো করে থাকেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে ভাড়াটে হিসেবে কাজ করেন। এখন পর্যন্ত সে ১০০টি মামলার বাদী হয়েছেন। ভাড়ায় অর্থাৎ অন্যের হয়ে মামলা করেন প্রতারক ফরিদুল আলম  । প্রতিটি মামলার সাক্ষী কখনো সে নিজে, কখনো তার ছেলে, ভাতিজা অথবা ছোট ভাই  তার মামলার বেশির ভাগ স্বাক্ষী জানে না যে তাকে মামলার স্বাক্ষী করা হয়েছে।




নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ সেরা খবর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

মায়ানমারে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়াল