ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার পর স্বস্তি নিয়ে আসে বিএপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান

তারেক রহমান প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে প্রথম ভাষণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঐক্যের ডাক দেন। বাংলাদেশ নিয়ে তার স্বপ্নের কথা বলে।
  • আপলোড তারিখঃ 04-01-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 205966 জন
বাংলাদেশের  অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার পর স্বস্তি  নিয়ে আসে বিএপি চেয়ারপারসন  তারেক রহমান ছবির ক্যাপশন: বাংলাদেশের অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার পর স্বস্তি নিয়ে আসে বিএপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান


গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটি ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশ দ্রুত অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। হাদির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে তাণ্ডবে সরকার প্রচণ্ড চাপে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সাধারণ মানুষকে করে উদ্বিগ্ন এবং শঙ্কিত হয়ে পড়ে।এই অবস্থায়  তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল দেশের অনিশ্চয়তা এবং অস্থিরতা দূর করার লক্ষ্যে একটি দৃঢ় পদক্ষেপ।

তারেক রহমান প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে প্রথম ভাষণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঐক্যের ডাক দেন। বাংলাদেশ নিয়ে তার স্বপ্নের কথা বলে। বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসাকে দূরে সরিয়ে দিয়ে তিনি সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে। এর মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষ খুঁজে পায় নতুন কাণ্ডারি। শুধু বাংলাদেশের জনগণ নয়, বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে। 

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বিদায়ী বছরের ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন এবং আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীর মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় দেশ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। মহান এই নেত্রীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বেগম জিয়ার মৃত্যু সব ভেদাভেদ ভুলে বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। 

বেগম জিয়ার বিদায়ে কেবল বাংলাদেশ এক হয়নি। গোটা বিশ্ব বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে শোক জানিয়েছে। যেটি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ৩২টি দেশের কূটনীতিকরা এসেছিলেন বেগম জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয় শংকরের ঢাকা সফর। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে শীতলতম অবস্থায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে, ওসমান হাদির মৃত্যুর পর দুই দেশের সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি হয়। দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনা উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলেন। এরকম একটি সংকটময় কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে জয় শংকরের ঢাকায় ঝটিকা সফর প্রচণ্ড শীতের মধ্যে এক টুকরো রোদের মতো।

২৫ ডিসেম্বরের আগের বাংলাদেশ এবং পরের বাংলাদেশের মধ্যে পার্থক্য আকাশ-পাতাল। ২৫ ডিসেম্বরের আগের বাংলাদেশ ছিল এক ক্ষত-বিক্ষত বিভক্ত বাংলাদেশ। মানুষ ছিল উদ্বিগ্ন, আশাহত। রাজনৈতিক দলগুলো ছিল একে অন্যের প্রতিপক্ষ, আক্রমণাত্মক। ২৫ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশে যেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। বিভক্ত জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজনের দেয়াল ভেঙে যায়। কেটে যায় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা। কমে যায় অস্থিরতা। গত দশদিনে বাংলাদেশে এক নীরব বিপ্লব ঘটে। রাজনীতিতে এসেছে গুণগত পরিবর্তন। 


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ সেরা খবর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই: প্রধান উপদেষ্টা