দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
উল্লেখ্য তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার বহুবিধ কারণ আছে। এ ক্ষেত্রে তাঁর নিজ দল বিএনপির কথাই প্রথমে বলা প্রয়োজন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তাঁর পক্ষে দলটির নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে এত দিন তারেক রহমান বিদেশে বসে দল পরিচালনা করেন। অতঃপর এখন তিনি দেশে থেকে দল পরিচালনা করে এবং সরাসরি দলের কার্যক্রম তদারকি করেন এত দিন যা সম্ভব ছিল না। নেতার অবর্তমানে দলের অভ্যন্তরে কিছু সমস্যা এবং বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হচ্ছিল! দলীয় নেতা-কর্মীরা অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং কলহে জড়িয়ে পড়েন এমন ঘটনা নিতান্ত কম নয়! তারেক রহমান দেশে ফেরায় তাতে লাগাম পরানো সম্ভব হবে। কারণ তাঁর চোখের সামনে এসব ঘটনা তিনি বরদাশত করবেন না বিধায় অঘটনঘটনপটীয়সী ব্যক্তিরা সাবধান হয়ে যাবেন।
সামনের নির্বাচনি বৈতরণি পার হওয়া যেহেতু খুব সহজসাধ্য কাজ হবে না, সুতরাং নিজ দলের পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও তাঁর আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন হবে বলে মনে করি। আর এ ক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো, মিত্র দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব কমিয়ে আনা হবে! নতুন প্রজন্মের জেন-জির বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে হবে। বিএনপির মতো একটি প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের সুসম্পর্কের আলাদা গুরুত্বপূর্ন। আর বিএনপির কর্ণধার তারেক রহমানও এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত হবেন বলেই বিশ্বাস।
বিএনপি একটি বড় দল। তাদের বিশাল কর্মী বাহিনী আছে, কথাটি সত্যি হলেও এবারের নির্বাচন একটু আলাদা যেভাবে ভাবা হচ্ছে, সেভাবে নির্বাচনে জিতে আসা সহজ না-ও হতে পারে! বিএনপিকে আরও বেশি করে জনসম্পৃক্ত হবে! জনগণের মনের কথা বুঝে সেই অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে! আর সামনের এই অল্প সময়টুকুর মধ্যেই তা করতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। দেশের মানুষকে জাগরণের নতুন বাণীতে উজ্জীবিত করতে হবে।
বিদেশের মাটিতে বসে দেশের রাজনীতিতে অবদান রাখার মতো একটি অসম্ভব কাজকে তিনি সম্ভব করে দেখান। দিনরাত পরিশ্রম করে নিজে সঠিক পথে থেকে দলটিকেও সঠিকভাবে এগিয়ে নেয়। তারেক রহমানের একনিষ্ঠতা, দেশ এবং দলের প্রতি কর্তব্যপরায়ণতা এবং দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণে তিনি একজন বুদ্ধিদীপ্ত অবিচল, অদম্য মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।