প্রতারনায় পিএইচডি করা আন্তর্জাতিক মানের পেশাদার প্রতারক চট্টগ্রাম লোহাগাড়া থানার পদুয়া ইউনিয়ন খন্দকার পাড়া গ্রামের মৃত সরোয়ার কামালের বড় ছেলে প্রতারক ফরিদুল আলমের এমন কোনো খাত বা ক্ষেত্র নেই, যেখানে তার প্রতারণার হাত নেই।প্রতারক ফরিদুল আলমের বিশাল বড় সিন্ডিকেটের সাথে জরিত আছে কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল যেমন দৈনিক স্বাধীন কাগজ,আজকের দেশ ডটকম,নিউজ ব্যুরো অফ বাংলাদেশ,কুমিল্লা প্রতিদিন,সবুজ বিপ্লব,আমাদের মাতৃভূমি,নবজাগরণসহ বেশ কিছু নিউজ মিডিয়া ও অসাদু লোকজন।
প্রতারক ফরিদুল আলমের সার্বিক সহযোগী এসব নিউজ মিডিয়া টাকার বিনিময়ে কোন রকম তথ্য যাচাই বাছাই ছাড়া মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন চটকদার রসালো রুপকথার কল্পকাহিনী লিখে মানুষকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করেছে দীর্ঘদিন ধরে।উক্ত মিডিয়া গুলো মোস্তফা সরদার ও মুনা চৌধুরী নিয়ে বিভিন্ন শিরোনামে যেসব সংবাদ প্রচার করেছে তা সম্পর্ণ মিথ্যা বানোয়াট মনগড়া । ভুক্তভুগীরা এসব মিডিয়াকে তথ্য যাচাই বাছাই ছাড়া সংবাদ লিখিত ভাবে বন্ধ করতে নিষেধ করলে তারা মোটা অংকের টাকা দাবি করে ।তারা টাকার বিনিময়ে ফরিদুল আলমকে সব রকম সহযোগিতা করেছে বলে জানায় ভুক্তভুগীরা।উক্ত নিউজের ব্যাপারে নিউজ ব্যুরো অফ বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ করলে হুমকী ও অসামাজিক অশ্লীল বকা দেয় সেরা খবরকে।এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানায় সাধারণ ডায়রী হয়েছে।
কখনো বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা, কখনো গোয়েন্দা সংস্থার পদ-পদবিধারী ব্যক্তি,চাকরি দেবার কথা বলে অসংখ্য নারীকে বিদেশে পাচার,জাল কাবিননামা তৈরি করে স্ত্রী দাবী করা,মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও টাকা দাবী,মানুষের জমির জাল দলিল করে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেয়া, সরকারি চাকরির প্রশ্ন ফাঁস, আবার কখনো বা সরকারের প্রভাবশালী কর্তাব্যক্তির পরিচয়ে তৎপরতা চালাচ্ছে পেশাদার প্রতারক ফরিদুল আলম । অভিনব কৌশল আর চটকদার কথার জাদু দিয়ে সহজ-সরল মানুষদের ভুলিয়ে বিপুল অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক ফরিদুল। অনেকে লোভে বা প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে এই প্রতারকের খপ্পরে পড়ছেন।
সম্প্রতি প্রতারক ফরিদুল আলমের এমন বেশ কিছু প্রতারণা সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত এসেছে দৈনিক সেরা খবরের হাতে। কেবল এ কয়েকটি ঘটনা নয়, বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অহরহ প্রতারণামূলক অপরাধ করেছে ফরিদুল আলম । প্রতারণার মাত্রা কোথাও কোথাও এতটাই ভয়াবহ যে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা পরিবার পুরো নিঃস্ব হয়ে গেছে। দিশেহারা এসব ভুক্তভোগী মামলা দিয়েও যথাযথ প্রতিকার বা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না। কোনো কারণে অপরাধী গ্রেপ্তার হলেও প্রতারণার মামলার দুর্বল ধারার সুযোগে খুব সহজেই জামিনে মুক্তি পেয়েছে ফরিদুল আলম।
ফরিদুল আলমের হোটসএ্যাপ নম্বর ০১৭৩৪২১৮৯৪০ নম্বর থেকে বিশ্বব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার পরিচয়ে পাবনার মাছের খাদ্য প্রস্তুতকারক কারখানার মালিক সোহেল খানকে ফোন করা হয়। বলা হয়, ‘‘বিশ্বব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান থেকে বলছি। আপনার কোম্পানি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। তাই আপনার কোম্পানি চাঙা করতে ৩০ কোটি টাকা লোন (ঋণ) দিতে চাই। তবে তার আগেই প্রতি লাখে সাড়ে ৬ শতাংশ হারে নগদ টাকা আমাদের দিতে হবে।” সোহেল খান সরল বিশ্বাসে তাদের চটকদার অফিস ও কথায় ২ কোটি টাকা দিয়ে প্রতারনার স্বীকার হয়।
২০২২ সালের মিরপুর বড়বাগের ৬২/৬৩ নম্বর বাসায় অভিনব প্রতারণা চালায় ফরিদুল আলম ।টার্গেট অনুসারে সেই বাসা ভাড়া নিয়ে নিজেকে সরকারী ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে আশেপাশের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বল্প সময়ের মধ্যে সখ্য গড়ে সেই প্রতারক ফরিদুল আলম। একপর্যায়ে পাশের একটি বাড়িতে ঢুকে ‘শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিল ব্রেথ’জাতীয় কোনো কেমিক্যাল স্প্রে ব্যবহার করে পরিবারে সবাইকে সম্মোহিত করে ফেলে! এ সময় আমেরিকাপ্রবাসী তার বোনের আরও কিছু বান্ধবী এই বাসায় আসবে জানিয়ে পরিবারের নারী সদস্যদের ভালো পোশাক পরিধানসহ গহনা পরতে বলে। তার কথামতো বাসার সদস্যরা আলমারি খুলে তাদের গহনার বাক্স বের করলে ওই প্রতারক ফরিদুল সেটি হাতে নিয়েই সটকে পড়ে। পরে এ ঘটনায় প্রায় ৫৫ ভরি স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার তথ্য জানিয়েছে পরিবারটি।
অন্যদিকে রাজবাড়ির একজন কাপড় ব্যবসায়ী গত সপ্তাহে ফরিদুল আলমের ‘বিট কয়েন’ চক্রের ফাঁদে। ওই ব্যবসায়ীর কাছে ছিল বেশ কিছু পিতল বা কাঁসার বাংলাদেশি ধাতব মুদ্রা। সেটা কোনো মাধ্যমে জেনে যায় প্রতারক ফরিদুল। তারা প্রতি এক টাকার কয়েনে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার লোভ দেখায়। একপর্যায়ে ওই ব্যবসায়ীকে তার কাছে থাকা সব কয়েন নিয়ে মিরপুরে একটি ঠিকানায় যেতে বলা হয় তারপর বিভিন্ন কৌশলে হাতিয়ে নেয় ৮০ লাখ টাকা।
প্রতিদিন-প্রতিমহূর্তে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অহরহ প্রতারণা করে ফরিদুল আলম।মানুষের সরল বিশ্বাসের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে অপরাধী চক্রটি। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম), জিনের বাদশা, ব্যক্তি বা ব্যবসায়ী পর্যায়ে নানা রকম প্রলোভন দিয়ে ফাঁদে ফেলাসহ অনলাইনে তার বাটপারি অহরহ।