চট্টগ্রাম লোহাগাড়া থানার পদুয়া ইউনিয়ন খন্দকার পাড়ার মৃত সরোয়ার কামালের বড় ছেলে প্রতারক ফরিদুল আলমের প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন চট্রগ্রাম লোহাগাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের এক গৃহবধূ। প্রতারণা করে তার ফোন নম্বর ও জাতীয় পরিচয় পত্র ব্যবহার করে প্রতারক ফরিদুল বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলে বেশ কিছু লোকজনের থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর বিপদে পড়ছেন ওই ভুক্তভোগী নারী।
পেশাদার প্রতারক ফরিদুল আলম অসহায় গরীব মেয়েদের কাজের লোভ দেখিয়ে তাদের ভোটার আইডি দিয়ে হাজারখানেক সীম তুলে বিকাশ করে নেয় তারপর সেই সিম দিয়ে শুরু করে প্রতারনা।ফরিদুলের ৫টি ব্যাংক হিসাবে হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
বিকাশে লেনদেন সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লোহাগড়া উপজেলার এলাকার ওই গৃহবধূ নামে থানা থেকে একটি নোটিশ যায়
উপজেলার পদুয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে। নোটিশে উল্লেখ রয়েছে, নোটিশ প্রাপ্তির তিন কার্য
দিবসের মধ্যে বিকাশ নম্বর ও লেনদেন সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজ পত্র নিয়ে মিরপুর
থানায় হাজির হওয়ার জন্য। মিরপুর থানার এই মামলার
তদন্তের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এই প্রতারণার মামলাটি গত ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর দুপুর ১২টার সময় দায়ের করা হয়। কিন্ত এত দিন পর্যন্ত কিছুই জানতেন না ভুক্তভোগী। গত বুধবার হঠাৎ জানতে পারেন তার নামে নোটিশ এসেছে। কিন্তু কীভাবে তার নম্বর দিয়ে ঢাকায় প্রতারণা হল তার কিছুই জানেন না।
ভুক্তভোগী বলেন, আমি কখনো ঢাকায় যাইনি। আমি এলাকায় থাকছি এরপরও কীভাবে এই প্রতারণা করা হয়েছে আমি জানি না। এখন ঢাকায় গিয়ে কীভাবে আমি নোটিশের জবাব দেব সেই দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারছি না। রাস্তাঘাট চিনি না, কোনোদিন এলাকার বাইরে যাই নাই। তা ছাড়া এই বিষয়টি গ্রামে জানাজানি হলে মুখ দেখাবো কেমনে। কোনো অপরাধ না করে অপরাধী হওয়া এটা খুব কষ্টের।
ভুক্তভোগীর স্বামী স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, এই বিকাশ পারসোনাল অ্যাকাউন্ট আমার স্ত্রী’র নামে করা। কিন্তু প্রতারকেরা এই নম্বর কীভাবে ব্যবহার করেছে কিছুই বুঝতে পারছি না। এই বিকাশ অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। আমরা গ্রামের মানুষ, গ্রামেই থাকি। আমার স্ত্রী তো কোনও দিন বাইরেই যাননি। তা হলে আমরা কীভাবে ঢাকার প্রতারণার সাথে যুক্ত হব। আমি বিকাশ অফিসে গিয়ে লেদেনের কাগজ পত্র তুলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব কি করা যায়। আমরা গ্রামে থেকেও যদি এভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় তা হলে তো বিকাশ ব্যবহার করা বন্ধ করা ছাড়া আর কোন আমাদের উপায় নেই। বাড়তি হয়রানির মধ্যে পড়ে গেছি।
পদুয়া বাজার পুলিশ ফাঁড়ির সহকারি পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) জানান, আমাদের ফাড়িতে বিকাশ সংক্রান্ত দুটি নোটিশ এসেছে ঢাকার মিরপুর থানা থেকে। কিন্ত কেন তাদের নোটিশ করা হল এ ব্যাপারে কিছুই জানা নেই আমার।
ঐ মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক , প্রতারকেরা তাদের ছবি এনআইডি ব্যবহার করে প্রতারণা করেছে। তাদের এই নামে বিকাশ অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাদের জিঙ্গাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। তারা ঐ ধরনের কাউকে চেনেন কি না তা জানার জন্য ডাকা হয়েছে।