চট্টগ্রাম লোহাগাড়া থানার পদুয়া ইউনিয়ন খন্দকার পাড়া এলাকার খন্দকারপাড়া মসজিদ থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরত্বে, সরেয়ার কামালের বড় ছেলে প্রতারক ফরিদুল আলম পার্টিতে বিত্তশালী মহিলাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন ফেসবুকে তার পর তাঁদের বিনিয়োগে উৎসাহ দিতেন তার ভুয়া ব্যবসায়।
দ্বিগুণ থেকে চার গুণ টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিতেন প্রতারক মাদকাসক্ত ফরিদুল আলম । তাঁর কথার ফাঁদে পড়ে অনেকেই বিনিয়োগ করতেন । কিন্তু টাকা ফেরত নিতে গিয়ে দেখেন তাঁদের ‘বন্ধু’ই বেপাত্তা।
প্রতারক ফরিদুল আলম পার্টির আয়োজন করতেন। মূলত সেই পার্টিতে বিত্তশালী মহিলাদের আমন্ত্রণ জানাতেন। কোন কোন মহিলাকে আমন্ত্রিতের তালিকায় রাখা যায়, আগে তাঁদের বাছাই করতেন। তার পর পার্টিতে আমন্ত্রণ জানানো হতো। পার্টিতে হইহুল্লোড়ের মাঝে নিজের লক্ষ্যপূরণের কাজটিও সেরে নিত প্রতারক ফরিদুল আলম । তাঁদের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্ব করত। তার পর তাঁদের বোঝাতেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিনিয়োগ করলে দ্বিগুণ থেকে চতুর্গুণ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। অনেক ভুক্তভুগীকে আবার কম দামে আরব দেশে সোনা কিনে রাখার বিষয়েও উৎসাহ দিতেন।
এছাড়াও প্রতারক ফরিদুল আলম কখনও সাংবাদিক, কখনও গোয়েন্দা কর্মকর্তা, কখনও বা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী বা কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। যখন যার কাছে যে পরিচয় দিলে সুবিধা, সেটিই দেন তিনি।
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন ঢাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী।ঢাকার মিরপুরের ৬২/৬৩ বড়বাগের বাসায় তার খোঁজে এসে ব্যবসায়ীরা জানান, অটো পার্টস বিক্রিকে পেশা দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন প্রতারক ফরিদুল আলম । তবে তাকে এখন পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও।
কর্মজীবনের শুরুটা হোটেল বয় হলেও এখন বিত্তশালী। বিয়ে করেছেন বেশ কয়েকটি। চট্টগ্রাম লোহাগাড়া থানার নোয়াপাড়া গ্রামে স্ত্রীরদের জন্য ১০ তলা বাড়ি করেছেন। এই বাড়িটি করতে যে অঢেল খরচ হয়েছে, সেটি দেখলেই বোঝা যায়।
বিভিন্ন সময়ে তিনি ছিনতাই, চুরি ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন অনেকবার। জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি আবার শুরু করেন নতুন নতুন ফন্দি আর বাটপারি ব্যবসা।
পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বলেন,প্রতারক ফরিদুল আলম এর বিরুদ্ধে এলাকায় বেশ কয়েকটি চুরির অভিযোগ রয়েছে। ২০০৬ সালের ২৭ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে লোহাগাড়া থানায় চুরির অভিযোগে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় মাসখানেক জেল খাটার পর এরপর তিনি এলাকা ছাড়েন।
তিনি আরো জানান ‘শুনেছি ঢাকায় হোটেলে চাকরি ও পরে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের কাজ করতো। তবে এসব করে বিপুল জমি কেনা আর বাড়ি করা অসম্ভব। সব শেষ ২০২৪ সালের শেখ হাসিনার পাতানো নির্বাচনের সময় তাকে নৌকার পক্ষে প্রচারণা এবং টাকা দিয়ে সাহায্য করতে দেখেছি। ওই সময় লোকমুখে আমি যতটুকু শুনেছি, প্রতারক ফরিদুল আলম ঢাকাতে বেশ কিছু অর্থ প্রতারণায় জড়িয়ে নাকি এলাকায় ফিরেছেন।’