হাইপোথাইরয়েডিজম একটি নীরব ঘাতক রোগ, বর্তমানে আমাদের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি বা মন খারাপ থাকার মতো সমস্যাকে গুরুত্ব না দিয়ে উপেক্ষা করি। হাইপোথাইরয়েডিজম একটি গুরুতর হরমোনজনিত রোগ – হাইপোথাইরয়েডিজম বা থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি।
হাইপোথাইরয়েডিজম কী?
থাইরয়েড গ্রন্থি হলো গলার সামনের দিকে অবস্থিত একটি ছোট গ্রন্থি, যা শরীরের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্রন্থি যখন যথেষ্ট থাইরয়েড হরমোন উৎপন্ন করতে পারে না, তখনই হাইপোথাইরয়েডিজম হয়।
লক্ষণসমূহ:
অতিরিক্ত ক্লান্তি ও ঘুম ঘুম ভাব - ওজন বৃদ্ধি - ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা - চুল পড়া ও ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া - মনমরা ভাব বা বিষণ্নতা - মাসিক চক্রে অনিয়ম স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়া ।
হাইপোথাইরয়েডিজম কেন হয়?
আটোইমিউন ডিজঅর্ডার থাইরয়েড অপারেশন বা আয়োডিনের অভাব কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জন্মগত কারণেও হতে পারে
চিকিৎসা ও প্রতিকার:
ভয়ের কিছু নেই। সঠিক সময়ে ধরা পড়লে প্রতিদিন একটি মাত্র থাইরয়েড হরমোনের ট্যাবলেট গ্রহণেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এজন্য নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা (TSH, T3, T4) করাতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
কীভাবে সচেতন থাকবেন:
হরমোন পরীক্ষায় অবহেলা নয় অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ওজন বৃদ্ধি হলে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের যত্ন নিন । হাইপোথাইরয়েডিজম একটি নীরব রোগ। এটি অবহেলা করলে দীর্ঘমেয়াদে বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই শরীরের ছোট পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দিন। কারণ সচেতনতাই সুস্থ জীবনের প্রথম ধাপ। আপনার মতামত বা প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে লিখুন। আমার নিউজ পোর্টাল | আপনার পাশে সবসময়।